ভেনেজুয়েলা সংকট এবং বিশ্ব রাজনীতি

0
155
মাদুরোবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ভেনেজুয়েলা

ভেনেজুয়েলা। দক্ষিন আমেরিকা মহাদেশের উত্তর উপকূলে ক্যারিবীয় সাগরের তীরে অবস্থিত রাষ্ট্রটি গত পচিশ বছর ধরে সম্মুখীন হচ্ছে একের পর এক অভ্যন্তরীণ সংকটের।
গতবছরের মে মাসে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার হওয়ার পর এ মাসে প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেন নিকোলা মাদুরো। কারচুপি ও অসচ্ছতার অভিযোগ এনে ঐ নির্বাচন বয়কট করেছিলেন বিরোধীদলগুলো।

দেশান্তরী হচ্ছেন লাখ লাখ ভেনেজুয়েলান

সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দক্ষিন আমেরিকার এই দেশটি। একদিকে কল্পনাতীত মুদ্রাস্ফীতি, যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত অবরোধ, খাদ্যঘাটতি, দারিদ্রের হার বৃদ্ধির মতোন নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশটির অর্থনীতি। অন্যদিকে রাজনৈতিক সহাবস্থানের অভাব দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশকে করে তুলেছে সংকটাপন্ন।  এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে দেশান্তরী হচ্ছেন লক্ষ লক্ষ ভেনেজুয়েলান নাগরিক।

হুয়ান গুয়াইদো

গত বুধবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে  নির্বাচন কে অযোগ্য এবং অসচ্ছ দাবী করে জনসম্মুখে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত  প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুয়াইদো। তার এই ঘোষণার প্রতি সমর্থন জানিয়ে মাদুরোবিরোধী আন্দোলনে শামিল হতে শুরু করেছে দেশটির জনগন।

এ আন্দোলন কে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ক্যু বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো।
চলমান এই সংকটকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই এই অবস্থাকে দেখছেন ‘ছায়া স্নায়ুযুদ্ধ’ হিসেবে।

নিকোলা মাদুরো

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে গুয়াইদোকে ইতোমধ্যে সমর্থন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এএফপির হতে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, ব্রাজিল, কলাম্বিয়া, চিলি, পেরু ও আর্জেন্টিনার মতোন দক্ষিন আমেরিকার বড় বড় দেশগুলোও সমর্থন জানিয়েছে গুয়াইদোর প্রতি। গুয়াইদোর ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে দেশটিতে গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে আবারো নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।
অন্যদিকে মিত্র রাশিয়া চীনসহ তুরষ্ক, ইরান মেক্সিকো এবং কিউবার পক্ষ থেকে অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন নিকোলা মাদুরো। পাশাপাশি সরকার গঠনে দেশের সেনাবাহিনীর পূর্ণসমর্থন পেয়েছেন তিনি।

এদিকে গুয়াইদোর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সব ধরণের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন নিকোলা মাদুরো। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সকল কূটনীতিককে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ভেনেজুয়েলা ছেড়ে যাবার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মাদুরোর এহেন আচরণের প্রতিবাদে তার সরকার কে অর্থায়ন বন্ধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। এবং ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

স্বঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন নেতা গুয়াইদোকে সমর্থন দেয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি নিন্দা জানিয়েছে ভেনেজুয়েলার মিত্র রাশিয়া। তাছাড়াও ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হবে এই ধরণের যেকোন পদক্ষেপ গ্রহনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে হুশিয়ার  করেছে মস্কো।

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ভেনেজুয়েলান প্রতিনিধি

সংকটের বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে বিবৃতি প্রকাশের প্রচেষ্টায় ‘ভেটো’ দিয়েছে রাশিয়া এবং চীন। এ সময় জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নোবেনজিয়া ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে বলেন, ‘যারা ভেনেজুয়েলা কে একটি রক্তের সাগরের দিকে ধাবিত করার চেষ্টা করছেন আমরা তাদের তীব্র নিন্দা জানাই।’

মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে যেকোন প্রকারের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী দেশ ব্রাজিল এবং কলাম্বিয়ার।

নিকোলা মাদুরো এবং হুয়ান গুয়াইদো

ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন বিভক্ত। বিশ্বের পরাক্রমশালী দুই শক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া রয়েছে মুখোমুখি অবস্থানে। এমত অবস্থায় চলমান সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ  কূটনৈতিক সমাধান চায় বিশ্বনেতারা। ‘স্নায়ুযুদ্ধের’ ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যসুতঃ বিবিসি, প্রথম আলো, ওয়াশিংটন পোস্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here