Home Blog

প্রশ্নবিদ্ধ জাদুর শহরের বসবাসযোগ্যতা!

অপরিকল্পিত ঢাকা ছবিঃ সংগ্রহীত

লন্ডন ভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ইকোনোমিস্টের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইকোনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ প্রতিবছর ই রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা, অপরাধের মাত্রা, শিক্ষার সুযোগ, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবার মানের মতোন বেশ কিছু সূচক বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বের বসবাসের যোগ্য ও অযোগ্য শহরের একটি তালিকা প্রকাশ করে।

প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় জাদুর শহর ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। এই ক্ষেত্রে প্রথমে আছে যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার দামেস্ক এবং দ্বিতীয়তে আছে নাইজেরিয়ার লাগোস। আর গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্সে এক ধাপ এগিয়ে বর্তমানে এই নগরীর অবস্থান ১৩৮! বিশ্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত তো কেবল সিরিয়ার দামেস্ক নয়। বাকিসব যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরকে পেছনে ফেলে ঢাকার এই অবস্থান মোটেও রহস্যজনক নয়। ঢাকাকে কতিপয় লোকজনের ক্ষনে ক্ষনে লস এঞ্জেলেস কিংবা প্যারিস মনে হতে পারে। কিন্তু এখানে ব্যাতিক্রম হলো ঢাকার ভুগর্ভে বিস্ফোরণের অপেক্ষায় আছে লক্ষাধিক মাইন। অর্থাৎ আমাদের বসবাস একটি অবিস্ফোরিত মাইনফিল্ডের উপর। এই মাইনগুলো তো কোনো বহির্শক্তি এসে এখানে ফিট করে দিয়ে যাননি। তবে এদের রহস্য কী?

অপরিকল্পিত নগরায়ন। বেশ কিছুদিন আগে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায় ভুগর্ভে থাকা গ্যাসলাইন ফেটে গ্যাসে গ্যাসাকার হয়ে যায় পুরো এলাকা। বন্ধ করে দেয়া হয় গ্যাস সংযোগ। ‘চকবাজার ট্র‍্যাজেডির’ দিন সন্ধ্যায় মিরপুরেও একইভাবে ভুগর্ভে থাকা গ্যাসলাইন ফেটে আগুন ধরে যায় রাস্তায় থাকা বাস আর পিকাপ-ভ্যানে। এমন অহরহ ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে পুরো ঢাকাজুড়ে।

নগর-পরিকল্পনাবিদদের মুখে ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনার কথা শোনা গত এক দশক ধরে। বাস্তবতা প্রকাশ পায় ২০১৮ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যেখানে বলা হয়, এই শহরে প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে ১৭০০ মানুষ। জীবন-যাত্রার মান একটু উন্নত হবে এই আশা নিয়ে এই মানুষগুলো যে কেবল একরাশ অনিশ্চয়তার দিকে এগুচ্ছেন সে ব্যাপারে কারোর ই খেয়াল থাকার কথা না। পরিকল্পিত নগরায়নে রাজউকের আইডিয়া ‘Detailed Area Plan(DAP)’ নানা বিতর্কে মুখ থুবড়ে পড়েছে বেশ কয়েক বছর আগেই। বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ‘সবুজ ঢাকা’ পরিকল্পনাও। এটা অনুমিতই যে বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া ঢাকার এই দুর্দশা যেমন কাটবেনা তেমনি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সমান সুযোগসুবিধা ছড়িয়ে দেয়ার যে স্বপ্ন তার বাস্তবায়ন কার্যত অসম্ভব।

জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ঢাকাকে ঘিরে থাকা চার নদীকে দখলদার মুক্ত করে তাদের জায়গা ফিরিয়ে দিয়ে প্রান ফিরিয়ে আনার দাবীও সেই প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই। দখলের পাশাপাশি নদীগুলোর দূষণের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে ন্যুনতম সীমা। অবশেষে এসব নদীর জায়গা তাদের ফিরিয়ে দিতে নতুন কেবিনেটের অধীনে বেশ কয়েক মাস যাবত তৎপর হয়েছে BIWTA( বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ)। যার কার্যকারিতা ঠিক কতোদিন এ নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

ঢাকার অলিগলিতে গড়ে উঠা অননুমোদিত বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরী করছে বিদ্যুৎ সংকট। নগরীতে বর্তমানে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান যেসবের বলি হতে হয়েছে হাজার হাজার গাছপালা। ফলাফলঃ উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং নগরীর বিষাক্ত বায়ু। বেশ কয়েকবার ‘সবুজ ঢাকা’ কিংবা ‘ছাদ বাগান’ এর মতো প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও সিটি কর্পোরেশন এবং নগরীর নাগরিকদের সদিচ্ছার অভাবে ইতোমধ্যে অন্ধকারে চলে যেতে বসেছে পরিকল্পনাগুলো।

বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিটি মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য দরকার মাথাপিছু ২ হেক্টর বনভূমি যেখানে ঢাকায় এর পরিমান শূন্যের কাছাকাছি (০.০১৭ হেক্টর)।

নয় বছর আগে পুরান ঢাকার নিমতলীতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পরপরই ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো সেখান থেকে সকল রাসায়নিক গুদাম সরিয়ে নেয়ার। সেসময় পুরান ঢাকায় কেমিক্যালের গুদামের সংখ্যা ছিলো ৮০০র কিছু বেশি। দশবছর পরে সেই পুরান ঢাকারই চকবাজারেই হলো নিমতলী ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তি।

নিমতলী, চকবাজার কিংবা বনানী। অপরিকল্পিত নগরায়নের অভিশাপ থেকে যে আমরা কেউই মুক্ত নই সে ব্যাপারে এখন আর কোন সন্দেহ নেই।

জলবায়ু ও তাপমাত্রা, দূর্নীতি, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, খেলাধুলার স্থানের সুযোগ, খাদ্য ও পানীয়, ভোগ্যপণ্য সেবা, গৃহায়ন ও জ্বালানী, সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা এক কথায় একটা মহানগরীতে যেসব ন্যুনতম এবং মৌলিক সুযোগ সুবিধা আমরা আশা করি তার সবগুলো ক্ষেত্রেই যোজন যোজন পিছিয়ে ঢাকা

অপরিকল্পিত এই জাদুর শহরে দুর্যোগ একটি সিরিয়াল কিলার। যা প্রতিটি বিপর্যয়ের পর রেখে যায় আসন্ন আরেকটি দুর্যোগের সংকেত। এসব থেকে শিক্ষা না নিয়ে আমরা যতোদিন কেবল একে অপরকে দোষারোপ,তদন্ত কমিটি গঠন আর পরিকল্পনা করতে থাকবো, ততদিনে এই জাদুর শহরের মৃত্যু হবে। আর সেই মৃত্যু হবে সবচেয়ে অসুন্দর আর করুণ। কঠোর আইন, প্রতিটি পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন, নগর এবং নাগরিকের মিলিত সচেতনতা যদি সম্ভব হয় তবেই হয়তো চারশ বছরের পুরোনো এই শহরে আবার প্রান সঞ্চার হবে।

আদৌ কী শান্তি আসবে আফগানিস্তানে?

জালমেয় খলিল জাদ। ছবিঃ সংগ্রহীত

দীর্ঘ প্রায় দুদশক ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দোহায় অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যকার ছয়দিনের রুদ্ধশ্বাস আলোচনায় বেশ অগ্রগতি লক্ষ করা গিয়েছে। পাকিস্তানের ইংরেজী দৈনিক ডনের তথ্য মতে, ইতোমধ্যেই একটি খসড়া সমঝোতা চুক্তির কাছাকাছি পৌছেছে দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
সমঝোতায় তালেবানের পক্ষ থেকে আফগানিস্তান থেকে সব ধরণের বিদেশী সেনা প্রত্যাহারের দাবী জানানো হয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের মাটি যেন আল-কায়েদা কিংবা আইএস যোদ্ধাদের নতুন ঘাটি না হয়ে উঠে সেই ব্যাপারে শক্ত প্রতিশ্রুতি চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গেলো বছরের শেষ দিকে সিরিয়ার পাশাপাশি আফগানিস্তান থেকেও সেনা প্রত্যাহারের ঘোষনা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই ঘোষনায় বিশ্বজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়, আলোচনা-সমালোচনা।

কারো কারো মতে, সেনাপ্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তের পর দুই পক্ষের মধ্যকার আলোচনা শান্তি প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করেছে। কেউ কেউ আবার এটিকে তালেবানের নীতির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অসহায় আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখছেন। তবে স্বভাবতই প্রশ্ন এসেছে, প্রায় সতেরো বছরের এই যুদ্ধের অর্জন ঠিক কতোটুকু? সেনাপ্রত্যাহার কিংবা তালেবানের সাথে শান্তি আলোচনার মতোন বিষয়গুলো আফগানিস্তানকে একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কিনা সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। যেই পক্ষের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’  পরিচালনা করা হলো সতেরো বছর পর সেই একই পক্ষের সাথে একই টেবিলে বসে শান্তি আলোচনার ব্যাপারটিকে অনেকে দেখছেন ‘হাস্যকর’ হিসেবে।

‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ ব্যানারের আড়ালে দক্ষিন এশিয়ায় নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করা এবং আধিপত্য বিস্তারের তীব্র আকাঙ্ক্ষাই যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তানের প্রতি আকৃষ্ট করেছিলো বলে মনে করেন অনেকে। পরিস্থিতি নাগালের বাহিরে চলে যাওয়ায় এখন তল্পিতল্পা গুটিয়ে রওনা হয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয়।

তবে শান্তি আলোচনা চলমান থাকলেও আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে তালেবানের হামলা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরে ইতোমধ্যে আফগানিস্তানের বিভিন্ন সামরিক আস্তানায় হামলা চালিয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর প্রায় ৩০০ সদস্যকে হত্যা করেছে গোষ্ঠীটি। গত শুক্রবার আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি জানান,  গত পাঁচ বছরে তালেবানের হাতে হত্যার শিকার হয়েছে আফগান নিরাপত্তাবাহিনীর প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য।

ছবি- Getty Image

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর নব্বইয়ের দশকে তালেবানের উত্থান ঘটে আফগানিস্তানে। এরপর ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর দেশটিকে শাসন করে গোষ্ঠীটি। জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয় শরিয়াহ আইন।  নারী শিক্ষা, কর্মক্ষেত্রে নারী অংশগ্রহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে চালু করা হয় প্রকাশ্য মৃত্যুদন্ড প্রথা। চলতে থাকে হত্যা ও নির্যাতন। আফগানিস্তানের সিংহভাগ অঞ্চল চলে যায় তালেবানের নিয়ন্ত্রনে।

২০০১ সালে ৯/১১ ঘটনায় জড়িতদের মদদ দেয়ার অভিযোগ এনে তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে তৎকালীন বুশ প্রশাসন। খুব কম সময়ের মধ্যে আফগানিস্তানের বেশিরভাগ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রন হারালেও একেবারে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়নি গোষ্ঠীটিকে। ফলাফল দীর্ঘ দুই দশকের সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী সংঘাত। আফগানিস্তানের মাটিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দেশটিকে আরো অনিরাপদ করে তুলেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

এর আগেও অনেকবার শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরী হলেও আলোর মুখ দেখেনি একটিও। বারবার ই দেশটি থেকে বিদেশী সেনাপ্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে আসছিলো গোষ্ঠীটি। বেশকয়েকবার আফগান সরকারের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসার কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান প্রেসিডেন্টের আচরণে সন্দেহ প্রকাশ করে সেই পথ থেকে সরে আসে তালেবান। ফলে অচলাবস্থার তৈরী হয় শান্তি প্রক্রিয়ায়।

অবশেষে নানান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর দুই পক্ষই একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌছতে সমর্থ হয়েছেন। যুদ্ধ বিরতির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাপ্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার উপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন তালেবান প্রতিনিধি। সবদিক থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এবং আফগান সরকারকে অনেকটা বেকায়দায় ফেলে দেয়া এই শান্তি আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থানকে তাই তালেবানের জয় হিসেবেই দেখছেন কেউ কেউ।

তবে এই শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ কী? আদৌ কী শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে আফগানিস্তানে? যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান তালেবানদের ক্ষমতা গ্রহনের উদ্দেশ্যকে আরো সুসংহত করবে এমনটা অনুমিতই। তাদের ক্ষমতায়নে আফগানিস্তান যে আবার সেই নব্বইয়ের দশকে ফিরে যাবে সেই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। তবে কেন এই সতেরো বছরের সংঘাত? আফগানিস্তানের সমাজ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে অর্থনীতি, রাজনীতি সবকিছুকে ধসিয়ে দেয়া এই যুদ্ধের শেষ কী শুধু সমঝোতাতেই সম্ভব? ক্ষমতা যদি মৌলবাদী তালেবানদের হস্তগত হয় তবে দেশ যে আরেকটি গৃহযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করবেনা তার নিশ্চয়তা কে দিবে?

ভেনেজুয়েলা সংকট এবং বিশ্ব রাজনীতি

মাদুরোবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ভেনেজুয়েলা

ভেনেজুয়েলা। দক্ষিন আমেরিকা মহাদেশের উত্তর উপকূলে ক্যারিবীয় সাগরের তীরে অবস্থিত রাষ্ট্রটি গত পচিশ বছর ধরে সম্মুখীন হচ্ছে একের পর এক অভ্যন্তরীণ সংকটের।
গতবছরের মে মাসে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার হওয়ার পর এ মাসে প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেন নিকোলা মাদুরো। কারচুপি ও অসচ্ছতার অভিযোগ এনে ঐ নির্বাচন বয়কট করেছিলেন বিরোধীদলগুলো।

দেশান্তরী হচ্ছেন লাখ লাখ ভেনেজুয়েলান

সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দক্ষিন আমেরিকার এই দেশটি। একদিকে কল্পনাতীত মুদ্রাস্ফীতি, যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত অবরোধ, খাদ্যঘাটতি, দারিদ্রের হার বৃদ্ধির মতোন নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশটির অর্থনীতি। অন্যদিকে রাজনৈতিক সহাবস্থানের অভাব দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশকে করে তুলেছে সংকটাপন্ন।  এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে দেশান্তরী হচ্ছেন লক্ষ লক্ষ ভেনেজুয়েলান নাগরিক।

হুয়ান গুয়াইদো

গত বুধবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে  নির্বাচন কে অযোগ্য এবং অসচ্ছ দাবী করে জনসম্মুখে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত  প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুয়াইদো। তার এই ঘোষণার প্রতি সমর্থন জানিয়ে মাদুরোবিরোধী আন্দোলনে শামিল হতে শুরু করেছে দেশটির জনগন।

এ আন্দোলন কে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ক্যু বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো।
চলমান এই সংকটকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই এই অবস্থাকে দেখছেন ‘ছায়া স্নায়ুযুদ্ধ’ হিসেবে।

নিকোলা মাদুরো

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে গুয়াইদোকে ইতোমধ্যে সমর্থন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এএফপির হতে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, ব্রাজিল, কলাম্বিয়া, চিলি, পেরু ও আর্জেন্টিনার মতোন দক্ষিন আমেরিকার বড় বড় দেশগুলোও সমর্থন জানিয়েছে গুয়াইদোর প্রতি। গুয়াইদোর ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে দেশটিতে গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে আবারো নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।
অন্যদিকে মিত্র রাশিয়া চীনসহ তুরষ্ক, ইরান মেক্সিকো এবং কিউবার পক্ষ থেকে অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন নিকোলা মাদুরো। পাশাপাশি সরকার গঠনে দেশের সেনাবাহিনীর পূর্ণসমর্থন পেয়েছেন তিনি।

এদিকে গুয়াইদোর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সব ধরণের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন নিকোলা মাদুরো। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সকল কূটনীতিককে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ভেনেজুয়েলা ছেড়ে যাবার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মাদুরোর এহেন আচরণের প্রতিবাদে তার সরকার কে অর্থায়ন বন্ধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। এবং ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

স্বঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন নেতা গুয়াইদোকে সমর্থন দেয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি নিন্দা জানিয়েছে ভেনেজুয়েলার মিত্র রাশিয়া। তাছাড়াও ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হবে এই ধরণের যেকোন পদক্ষেপ গ্রহনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে হুশিয়ার  করেছে মস্কো।

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ভেনেজুয়েলান প্রতিনিধি

সংকটের বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে বিবৃতি প্রকাশের প্রচেষ্টায় ‘ভেটো’ দিয়েছে রাশিয়া এবং চীন। এ সময় জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নোবেনজিয়া ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে বলেন, ‘যারা ভেনেজুয়েলা কে একটি রক্তের সাগরের দিকে ধাবিত করার চেষ্টা করছেন আমরা তাদের তীব্র নিন্দা জানাই।’

মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে যেকোন প্রকারের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী দেশ ব্রাজিল এবং কলাম্বিয়ার

ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন বিভক্ত। বিশ্বের পরাক্রমশালী দুই শক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া রয়েছে মুখোমুখি অবস্থানে। এমত অবস্থায় চলমান সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ  কূটনৈতিক সমাধান চায় বিশ্বনেতারা। ‘স্নায়ুযুদ্ধের’ ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যসুত্রঃ বিবিসি, প্রথম আলো, ওয়াশিংটন পোস্ট

জুবা- একটি অমীমাংসিত রহস্য।

ছবিঃ কাল্পনিক

‘তাকে কখনো কেউ দেখেনি, হয়তো দেখেও কেউ চিনেনি। তাকে শুধু শোনা যেত। কিন্তু যতোক্ষনে শোনা যেত ততোক্ষনে বেশ দেরী হয়ে যেতো।’

জুবা কে নিয়ে প্রচলিত বেশ কয়েকটি কথার মধ্যে এটি একটি! কে এই জুবা?

‘জুবা’ অর্থ আফ্রিকার যম নৃত্য। যমের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যতোটা কষ্টকর, ঠিক ততোটাই চ্যালেঞ্জিং ছিলো ‘জুবা’ নামক যমদুতের সাক্ষাত এড়ানো।

জুবা ছিলেন ইরাকে কর্মরত আমেরিকান সৈন্যদের ত্রাস।  সময়ে বাগদাদের দক্ষিনাঞ্চলে স্নাইপার হাতে আমেরিকান সৈন্যশিবিরে নিয়মিত ত্রাস ছড়িয়েছেন এই মার্কসম্যান। পরিচিতি পান ‘জুবা- দ্য বাগদাদ স্নাইপার’ নামে।

আমেরিকান সৈন্য শিবিরে জুবার সবচেয়ে বড় আঘাত হয়েছিলো রামাদিতে (বাগদাদের পশ্চিমাঞ্চলের একটি জায়গা)। ইরাকী স্নাইপারদের ভবলীলা সাঙ্গ করতে পাঠানো চার জন হাই স্কিল্ড স্নাইপারদের ফিরে আসতে হয়েছিলো লাশ হয়ে।

জুবাকে আমেরিকানরা কখনো কখনো ‘আষাঢ়ে গল্প’ গল্প বললেও ২০০৫ সালে বুশের জন্য উপহার হিসেবে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া ভিডিও বার্তায় প্রমাণ হয়েছিলো যে ‘জুবা’ কোন প্রোপাগান্ডার নাম ছিলোনা।

প্রতি শটেই জায়গা পরিবর্তন করার অসম স্কিল নিয়ে শত্রুবধ করতেন এই বাগদাদী স্নাইপার যার দেখা পাওয়া যায়নি আজও। এবং জুবা কি শুধু একজন ই কেউ? নাকি অনেকের সংমিশ্রনে তৈরী কোন দক্ষ স্নাইপার দল তা সম্পর্কে কেউই নিশ্চিত নন।

তবে ‘জুবা’ তার অস্তিত্বের প্রমান হিসেবে রেখে যেতো এক টুকরো কাগজ যেখানে লেখা থাকতো, ‘রক্ত দিয়ে যা নেওয়া হয়েছে তা কখনোই ফেরত দেওয়া যায়না- রক্ত ছাড়া….।’

তার দক্ষতা সম্পর্কে ইউএস আর্মির অবসরপ্রাপ্ত স্নাইপার প্রশিক্ষক ‘The Ultimate Sniper’ বই লেখক মেজর জন প্লাস্টারের বক্তব্য ছিলো খানিকটা এরকম,

” রাইফেল নিয়ে কি করতে হয় সে সম্পর্কে তার ভালোই ধারণা রয়েছে এবং প্রতিটি বুলেট ছোড়ার আগে তার বিচারশক্তি এবং শৃঙ্খলাও চমৎকার। বিচক্ষনতার সাথে সে তার পালিয়ে যাওয়ার পথ ও তৈরী করে রাখে।”

জুবার হাতে কতোজন আমেরিকার সৈন্যের মৃত্যু হয়েছে সেই ব্যাপারে বিতর্ক থাকলেও বিভিন্ন ভিডিও বার্তায় জুবার দাবী সে সংখ্যাটি ১৪৩ জন।

‘The Wall’ ছবির পোস্টার

জুবাকে নিয়ে পরবর্তীতে তৈরী হয়েছে অনেক ডকুমেন্টারি, কমিক্স, চলচ্চিত্রসহ গেমস ও। তাদের মধ্যে একটি ‘The Wall’

“আমেরিকান সৈন্যদের কাছে জুবা স্রেফ একজন আতঙ্ক হলেও বিদ্রোহীদের কাছে? সে নায়কের চেয়ে কোন অংশে কম নয়!” -এলেক্স হরটন (আমেরিকান সৈন্য)

তথ্যসুত্রঃ Roar Bangla, ABC News, The Guardian

 

১০টি দৈনন্দিন অভ্যাস যা বদলে দিতে পারে আপনার জীবন

ছবিঃ ইন্টারনেট

আপনার আচরণ ই ঠিক করে দিবে আপনি ঠিক কতোটা উচ্চতায় যেতে পারবেন। আমেরিকান লেখক এবং উদ্যোক্তা জ্যাক ক্যানফিল্ডের মতে, ‘জীবনে যারা সফল হয়েছেন তারা এমনিতেই সফলতার শিখরে পৌছে যান নি। সেখানে পৌছতে প্রয়োজন ফোকাস, ব্যাক্তিগত শৃঙ্খলা ইত্যাদি।’

সুতরাং পুরাতন নিরর্থক অভ্যাসগুলোকে পিছুটান হতে না দিয়ে আজ থেকেই ১০ টি এমন নতুন অভ্যাসের চর্চা করা যাক যেগুলো ভবিষ্যতের জন্য হয়ে উঠবে গুরত্বপূর্ণ সহায়ক।

দিনের শুরুটা হোক ইতিবাচক এবং স্বাস্থ্যকর

দিনের শুরুটা যখন হয় ইতিবাচক, তখন দিনের বাকিটা সময় যে সুন্দর আর অর্থবহ হবে সেই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। সুতরাং, আমাদের সবার উচিত প্রতিদিনের শুরুতে এমন কিছু অভ্যাস রপ্ত করা যেগুলো দিনের প্রতিটি মুহুর্তে যোগাবে অনুপ্রেরণা এবং দিনটিকে করে তুলবে লাভজনক। সেই অভ্যাসটি হতে পারে শারিরীক ব্যায়াম, লেখালেখি, ধ্যান, সংগীত সাধনা কিংবা বই পড়া।
অর্থাৎ যেটি আপনাকে ইতিবাচক ও সক্রিয় হতে সহায়তা করবে এবং দূর করবে মানসিক অবসাদ।

অনুসরণ করুন ৮০/২০ নীতিঃ

এই নীতির প্রবক্তা ইটালিয়ান অর্থনীতিবিদ ভিলফ্রেড পারেতো। তার নামানুসারে এই নীতিকে ‘পারেতো’র ৮০/২০ নীতি’ ও বলা হয়। ভিলফ্রেড পারেতোর মতে, যেকোন পরিস্থিতিতে মাত্র ২০ শতাংশ পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি কাজের ৮০ শতাংশ ফলাফল বের করে আনা সম্ভব। সুতরাং কোন একটি কাজে পুরোপুরি সফল হতে চাইলে প্রয়োজন সময়ের সদ্বব্যবহার এবং কর্মপরিকল্পনা।

পড়ুন, পড়ুন এবং পড়ুনঃ

পৃথিবীর যতো সফল ব্যাক্তিত্ব রয়েছেন তাদের সবার দৈনন্দিন রুটিনে একটি ব্যাপারে সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।  ‘বই পড়া।’ জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য বই পড়ার কোন বিকল্প নেই। বই পড়াকে তাই কোন কোন ক্ষেত্রে ধ্যান করার সাথেও তুলনা করা যায়। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে বই পড়ার অভ্যাস আমাদের মানসিক বিকাশে অগ্রণী ভুমিকা পালন করে। সহায়তা করে দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে।  বিকাশ ঘটায় চিন্তা-ভাবনায়। বিশ্বের শীর্ষ ধনী এবং মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিলগেটসের প্রতিদিনের পছন্দের কাজের মধ্যে একটি হলো বই পড়া। বছরে তিনি প্রায় ৫০টি বই পড়েন।

মাল্টিটাস্কিং কে না বলুনঃ

ফোর্বস সাময়িকীর মতে বিশ্বের মাত্র ২ শতাংশ মানুষ মাল্টিটাস্কিং এ পারদর্শী। একইসাথে অনেকগুলো কাজ আমাদের কার্যক্ষমতাকে বাড়ানোর বদলে কমিয়ে দেয়। অধিক পরিমাণে মাল্টিটাস্কিং আমাদের ফোকাস কে ব্যাহত করে। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে সময় বাঁচানোর জন্য উপযোগী মনে হলেও মাল্টিটাস্কিং আমাদের মস্তিষ্কের অপ্রাসঙ্গিক তথ্যগুলোকে আলাদা করার যে ক্ষমতা সেটিকে কমিয়ে দেয়।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষণালব্ধ ফলাফলে দেখা গেছে অধিক পরিমানে মাল্টিটাস্কিং আমাদের কর্মদক্ষতার বিকাশকে ব্যাহত করার পাশাপাশি মস্তিষ্কের অবসাদ তৈরী করে। সুতরাং প্রতিদিন ঘুমানোর আগে পরবর্তী দিনের জন্য একটি টু-ডু লিস্ট তৈরী করার অভ্যাস আমাদেরকে উপহার দিতে পারে একটি প্রোডাক্টিভ দিন।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে শিখুন

একজন ফ্রেঞ্চ ঔপন্যাসিক একবার বলেছিলেন, ‘গোলাপঝাড়ে কাঁটা আছে বলে আমরা যেমন অভিযোগ করতে পারি, তেমনি এইটা ভেবেও আনন্দিত হতে পারি যে সেই কাঁটাদের আবার গোলাপ ফুল আছে’। ইদুঁর দৌড়ের মতোন নিম্নমানের প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত হয়ে আমরা ভুলতে বসেছি যে আমরা আসলে কতোটা ভাগ্যবান। প্রকৃতিতে ঘটতে থাকা প্রতিটি ঘটনাকে আমরা দুইভাবে দেখতে পারি। একটি নেতিবাচক। অন্যটি ইতিবাচক। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সাম্প্রতিক একটি ইতিবাচক বিষয়কেও নেতিবাচক ভাবে দেখার প্রবণতা বেশ লক্ষনীয় হয়ে উঠেছে আমাদের মাঝে। এই ধরণের নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টির পেছনের সবচেয়ে বড় কারণ আমাদের কৃতজ্ঞতাবোধের অভাব। কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষের মধ্যে তৈরী করতে পারে ইতিবাচক মনোভাব, মানসিক চাপ কমিয়ে আনতে পারে শারীরিক সুস্থতা।
খুব ছোট ছোট বিষয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাস গড়ে তুলতে আমরা ব্যবহার করতে পারি ‘Gratitude Journal’,  স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে পারি বিভিন্ন ইভেন্টে। মূলত প্রতি রাতে ঘুমানোর পূর্বে সারাদিনের ছোট ছোট সবগুলো মুহুর্তের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশই এই অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক ভুমিকা পালন করতে পারে। কথায় আছে,

‘The more you appreciate the little joys of life, the happier you’ll be.’

নিজেকে ইতিবাচক মানুষের সংস্পর্শে রাখুন

‘সঙ্গদোষে লোহা ভাসে’ – বাংলাভাষায় জনপ্রিয় এই প্রবাদ বাক্য আমরা কমবেশি সবাই শুনেছি। আমেরিকান লেখক এবং উদ্যোক্তা জিম রন বলেছেন, ‘যেই পাঁচজনের সাথে আপনি আপনার সবচেয়ে বেশি সময় অতিবাহিত করেন তাদের একজন আপনি নিজে। অর্থাৎ আপনি কাদের সাথে আমার সময়ের সিংহভাগ অতিবাহিত করছেন তাদের ব্যাপারে আপনার সতর্ক হওয়া উচিত। আমাদের সকলের জন্য ইতিবাচক মানুষের সংস্পর্শে থাকা জরুরি। যেসব মানুষ আপনাকে উৎসাহ প্রদান না করে বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনাকে অনুৎসাহিত করতে ব্যস্ত তাদের থেকে প্রয়োজনে সরে আসুন। এমন মানুষের সংস্পর্শে আসুন যাদের সাথে নিজের সুখ এবং দুঃখের প্রতিটি মুহুর্ত ভাগ করে নেয়ার পাশাপাশি উৎসাহ পাওয়া যায়।

নিয়মিত ব্যায়াম করুনঃ

নিয়মিত শরীরচর্চা একজন ব্যাক্তির সৃজনশীলতা এবং জ্ঞানীয় দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে। তাছাড়াও ধৈর্যক্ষমতা এবং কর্মক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে কার্যকরী ভুমিকা পালন করে। শুধু তাই নয়,  শরীরে ‘Endorphins’ হরমোনের পরিমান বৃদ্ধি করে মন মেজাজ স্বাভাবিক রাখতেও সহায়তা করে এই অভ্যাস

শ্রবণ দক্ষতাকে করুন শাণিতঃ

Communication Skills বা যোগাযোগ দক্ষতা বর্তমানে অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।  যোগাযোগ দক্ষতাকে সাধারণ ভাষায় ‘তথ্যের আদানপ্রদান’ বলা যায়। কার্যকরী যোগাযোগ স্থাপন, ব্যাক্তিগত ও পেশাদারী যেকোন সম্পর্ক উন্নয়ন কিংবা রক্ষনে শ্রবণ দক্ষতা  অতীব গুরত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়। তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে অন্যের দেয়া তথ্যটাকে গ্রহণ করা, বুঝতে পারা জরুরী। সেইক্ষেত্রে শ্রবণ দক্ষতাকে শাণিত করার বিকল্প নেই। একজন শ্রোতা হিসেবে আপনার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব কথকের প্রতিটি কথাকে সমান গুরত্ব দিয়ে শোনা যা তাকে তার নিজের কাছেই মূল্যবান করে তুলতে পারে। শ্রবণ দক্ষতায় পারদর্শিতা অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ কেবল পছন্দের শ্রোতাই নয়, হতে পারেন একজন ভালো বক্তাও। পাশাপাশি এই দক্ষতা আপনার জ্ঞানের ভান্ডারকে করবে আরো সমৃদ্ধ। যেমনটি প্রকাশ পায় নিচের উক্তিতে,

The More you listen, the more you learn

বিরতি নিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেঃ

বিশ্বায়নের এই যুগে আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র এখন প্রযুক্তিনির্ভর।  ফোর্বস সাময়িকীর মতে, একজন ব্যাক্তি গড়ে প্রতিদিন ১ ঘন্টা ৪০ মিনিট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় থাকেন।  গবেষণালব্ধ ফলাফলে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার জন্ম দিতে হতাশা, বিষণ্ণতা এবং মানসিক অবসাদের। সুতরাং সপ্তাহে অন্তত একদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরী।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহনীয় ব্যবহার বিষণ্ণতাকে কাটিয়ে উঠতে কার্যকরী ভুমিকা পালন করতে পারে।

নিজের প্রতি যত্নশীল হোনঃ

ব্যস্ত জীবন থেকে নেয়া সামান্য বিরতি কখনো কখনো ব্যাক্তির মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। প্রতিদিন কমপক্ষে এমন একটি কাজ করুন যেটি আপনাকে মানসিক শান্তি প্রদান করে। হতে পারে সেটা গান শোনা,  গান গাওয়া, বন্ধুদের সাথে কোথাও ঘুরতে যাওয়া কিংবা নতুন কোন কিছু শেখা।

উপরিউক্ত অভ্যাসগুলো কখনোই একদিনে রপ্ত করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দৃঢ়তা,  সহনশীলতা এবং নিরলস চেষ্টা। আপনার দৃঢ়প্রত্যয়ী মনোভাব আপনাকে পৌছে দিবে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে।

Now pull up your socks, it’s time to win at life!

ফোর্বস সাময়িকী থেকে নেওয়া।

কলিন ও’ব্র্যাডিঃ ওয়ান স্টেপ এট এ টাইম।

উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ডেনালি জয়ের পর কলিন

আপনাকে যদি কখনো প্রশ্ন করা হয় যে, ‘একজন মানুষের মানসিক দৃঢ়তা ঠিক কতোটুকু উচ্চতায় যেতে পারে?’ তবে আপনার উত্তর কী হবে?

কলিন ও ব্র‍্যাডিকে ওই একই প্রশ্ন করা হলে তিনি হয়তো বলতেন, ‘সেটি ওই মানুষের সিদ্ধান্ত যে সে তার দৃঢ়তাকে ঠিক কতোটা উচ্চতাতে নিয়ে যেতে পারে।’

কলিন ও ব্র‍্যাডি।  মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ‘Explorers Grand Slam’ জয়ী এই এথলেটের কাজ ই ছুড়ে দিয়েছে উপরোক্ত প্রশ্ন যার জবাবও লুকিয়ে আছে তার কাজেই।

Explorer’s Grand Slam কী?

ছবিঃ ইন্টারনেট

এটি এমন একটি এডভেঞ্চার চ্যালেঞ্জ যা মূলত পৃথিবীর দুই মেরু এবং সাত মহাদেশের সাত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয়ের সমন্বয়ে তৈরী। অর্থাৎ, কোন ব্যাক্তি যদি ‘Explorer’s Grand Slam’ জয় করতে চান তবে তাকে পৃথিবীর দুই মেরু(উত্তর এবং দক্ষিন) এবং সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করতে হবে। ১৯৯৮ সালের পর থেকে এই পর্যন্ত গত বিশ বছরে ৬৩ জন সক্ষম হয়েছেন এই চ্যালেঞ্জটি সম্পন্ন করতে।

কে এই কলিন ও’ব্র‍্যাড?

এখন পর্যন্ত Explorer’s Grand Slam জয় করা সেই ৬৩ জনের একজন কলিন ও’ব্র‍্যাড। যার দখলে রয়েছে সবচেয়ে কম সময়ে এই চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করার রেকর্ডটিও। প্রশ্ন আসতে পারে এ ছাড়াও তো আরো ৬৩ জন এই চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করেছে। তবে শুধুমাত্র কলিন ও’ব্র‍্যাড ই কেন?

কলিন ও’ব্র্যাডি

গল্পের শুরুটা একদম ছোট বেলায়। ১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে জন্ম নেওয়া কলিনের শৈশব কেটেছে অরিগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডে। সেখানে থাকাকালীন শৈশবের বেশিরভাগ সময় কেটেছে উত্তর-পশ্চিম মহাসাগরীয় অঞ্চলের পর্বতমালায় ঘুরে যা পরবর্তীতে তাকে একজন দুঃসাহসিক অভিযাত্রী হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে। পাহাড় চড়ার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও বেশ সক্রিয় ছিলেন তিনি।

ছবিঃ কলিন ও’ ব্র্যাডির ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহীত

সাতারু এবং ফুটবলার হিসেবে পেয়েছিলেন জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি। এসবকিছুর পরেও একটি স্বপ্ন ছিলো যেটি তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়াতো। সেটি ছিলো ‘বিশ্বজয়ের স্বপ্ন’। সেই স্বপ্নজয়ের জন্য দরকার ছিলো প্রচুর টাকার। আর্থিক সংস্থানের জন্য শুরু করলেন হাউজ পেইন্টিংয়ের কাজ। সেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ জমিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকলেন বিশ্বকে ঘুরে দেখার চ্যালেঞ্জের জন্য।

অবশেষে এলো সেই কাঙ্খিত সময়। ২০০৬ সালে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেই নিজের স্বপ্নপুরণের লক্ষ্যে একটি ব্যাগপ্যাক আর সার্ফবোর্ড কাধে ঝুলিয়েই বেরিয়ে পড়লেন বিশ্বজয়ের উদ্দেশ্যে।

তবে স্বপ্নপুরণের পথে অর্ধেক না পেরুতেই তার জীবনে এলো সবচাইতে বড় বাধা।  ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে থাইল্যান্ডের একটি দ্বীপে ঘটে যাওয়া এক আকস্মিক দূর্ঘটনা তাকে ঠেলে দিয়েছিলো অনিশ্চয়তার দ্বারপ্রান্তে। যেই দূর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো  পা-সহ তার শরীরের ২৫ শতাংশ।

ছবিঃ কলিন ও’ব্র্যাডির ওয়েবসাইট হতে সংগ্রহীত

এতোসব অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনে প্রথমবারের মতোন নিজের উপর ভরসা হারাতে বসা কলিনের জীবনে আলো হয়ে এলেন তার মা। ফোর্বস  সাময়িকীকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে কলিন তার মায়ের অবদান স্বীকার করে বলেন, ‘এই গল্পটা ছিলো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার গল্প। ডাক্তার বলেছিলেন আমি আর কখনো স্বাভাবিক ভাবে হাটতে পারবোনা। আমি যখন থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে হেরে যাওয়ার যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছিলাম তখন আমার মা আমার পাশে এসে বসে বলেছিলেন যে আমার জীবন এখনো শেষ হয়ে যায়নি। এবং এই জীবনে আমি আরো অনেক চমকপ্রদ কিছু করার ক্ষমতা রাখি। তার এই কথাগুলোই আমাকে সেই ঘটনার আঠারো মাস পরে ‘শিকাগো ট্রায়াথলন’ এর রেসট্র‍্যাকে দাড় করিয়েছিলো।  সেদিন ৫০০০ অংশগ্রহনকারীদের মধ্য থেকে আমি ঘরে ফিরেছিলাম প্রথম হয়ে। তবে সেটি একদিনে হয়নি। দীর্ঘ তিনমাস হুইলচেয়ারে বসে থাকার পরে একদিন হঠাৎ আমার মা আমার হুইলচেয়ার থেকে ঠিক এক ধাপ সামনে একটি চেয়ার রেখে বললেন এটি আমার লক্ষ্য। সেদিন প্রায় তিন ঘন্টার চেষ্টায় আমি আমার একমাত্র পদক্ষেপটি নিয়েছিলাম। আমি শিখেছিলাম কোন কাজ একদিনে হয়না। জীবনে এগিয়ে যেতে প্রতিটি পদক্ষেপ ই জরুরি।’

ছবিঃ ইন্টারনেট

শিকাগো ট্রায়াথলনে প্রথম স্থান অধিকার করে তিনি নজর কাড়েন সেখানে উপস্থিত স্পন্সরদের। পরবর্তীতে একজন প্রফেশনাল ট্রায়াথলেট হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন ছয়টি মহাদেশের পঁচিশটি দেশে।

Beyond 7/2

ছয় বছর প্রফেশনাল ট্রায়াথলেট হিসেবে কাজ করার পর বিশ্বকে জয় করার নতুন চ্যালেঞ্জ হাতে নিলেন কলিন এবং তার স্ত্রী জেনা। চ্যালেঞ্জটি ছিলো ‘ The Explorers Grand Slam’! অভিযান শুরুর পূর্বে শিশুদের স্বপ্ন পূরণে উদ্দীপনা যোগাতে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘Beyond 7/2’ প্রতিষ্ঠা করেন কলিন-জেনা দম্পতি৷ যা আজ হাজারো শিশুর স্বপ্ন পূরণে কাজ করে চলেছে।

পরিকল্পনা গ্রহনের পর জেনা এবং কলিন পরবর্তীতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ফান্ডারাইজিং এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অনুসন্ধানে। আঠারো মাসের প্রস্তুতি শেষে অবশেষে শুরু হয় অভিযান।

এক্সপ্লোরারস গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের অভিযানে কলিন

২০১৬ সালের চার জানুয়ারি ৮৯° ডিগ্রি দক্ষিন অক্ষরেখা থেকে যাত্রা শুরু করে ৭দিনে ৬৯ মাইল পারি দিয়ে পৌছান ৯০° ডিগ্রি দক্ষিন অক্ষরেখায়।

ছবিঃ ইন্টারনেট

এরপর জানুয়ারির শেষদিকে মাউন্ট ভিনসন(এন্টার্কটিকা, ১৬,০৫০ ফুট) এবং মার্চের  শেষ সপ্তাহের মধ্যে আকনকাগুয়া( দক্ষিন আমেরিকা, ২২,৮৩৮ ফুট), কারস্তনেজ পিরামিড( ওশেনিয়া, ১৬,০২৪ ফুট),  কিলিমাঞ্জারো ( আফ্রিকা, ১৯,৩৪১ ফুট), মাউন্ট এলব্রুস ( ইউরোপ, ১৮,৫১০ ফুট) জয় করেন কলিন।

ছবিঃ ইন্টারনেট

এপ্রিলে পৃথিবীর সর্বোচ্চ বিন্দু মাউন্ট এভারেস্ট (এশিয়া, ২৯,০২৯ ফুট) জয় করার আগে হার মানান প্রতিকুলতায় ঠাসা উত্তর মেরুকেও। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২৭ মে উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ  ডেনালি (২০,৩১০ ফুট) জয়ের মধ্য দিয়ে মাত্র ১৩৯ দিনে ‘Explorers Grand Slam’ সম্পন্ন করে রেকর্ড বইয়ে সবার উপরে স্থান করে নিয়েছেন কলিন ও’ব্র‍্যাডি!

 

দক্ষিন মেরু জয়ের পথে কলিন

‘Explorers Grand Slam’ জয় করেই থেমে থাকেন নি কলিন ও’ব্র‍্যাডি। গেলো বছর সম্পূর্ন একাই এন্টার্কটিকা মহাদেশ ভ্রমণ করেছেন তেত্রিশ বছর বয়সী দুঃসাহসী এই মার্কিন অভিযাত্রী। এর আগে বিভিন্ন জন বিভিন্ন সময়ে এই মহাদেশ ভ্রমণ সম্পন্ন করলেও সম্পুর্ন একা এবং কোন ধরণের সহায়তা ছাড়া এই চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করা ব্যাক্তি তিনিই প্রথম।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে এনেছিলেন প্রতিকুলতায় ঠাসা এমন একটি মহাদেশে ৫৪ দিন সম্পূর্ন একাকী থাকার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

ছবিঃ ইন্টারনেট

মায়ের উদ্দীপনায় সেদিনের তিন ঘন্টার চেষ্টায় নেয়া সেই পদক্ষেপ তাকে পৌছে দিয়েছে বিশ্বের সবচাইতে দুঃসাহসিক অভিযাত্রীদের তালিকায়। হয়তো সেইজন্যেই কলিন ও’ব্র‍্যাডি ভেঙে পড়তে জানেননা। হয়তো আজও কখনো কোন দূর্গম পথ পাড়ি দিতে গিয়ে একটু পিছিয়ে পড়লেও তার মন আপনাআপনি বলে উঠে ‘One Step at a time’!

 

তথ্যসুত্র ও কৃতজ্ঞতাঃ The New York Times, The Guardian, Colin O’Brady, Forbes, নয়াদিগন্ত, The Washington Post.