আপনার আচরণ ই ঠিক করে দিবে আপনি ঠিক কতোটা উচ্চতায় যেতে পারবেন। আমেরিকান লেখক এবং উদ্যোক্তা জ্যাক ক্যানফিল্ডের মতে, ‘জীবনে যারা সফল হয়েছেন তারা এমনিতেই সফলতার শিখরে পৌছে যান নি। সেখানে পৌছতে প্রয়োজন ফোকাস, ব্যাক্তিগত শৃঙ্খলা ইত্যাদি।’

সুতরাং পুরাতন নিরর্থক অভ্যাসগুলোকে পিছুটান হতে না দিয়ে আজ থেকেই ১০ টি এমন নতুন অভ্যাসের চর্চা করা যাক যেগুলো ভবিষ্যতের জন্য হয়ে উঠবে গুরত্বপূর্ণ সহায়ক।

দিনের শুরুটা হোক ইতিবাচক এবং স্বাস্থ্যকর

দিনের শুরুটা যখন হয় ইতিবাচক, তখন দিনের বাকিটা সময় যে সুন্দর আর অর্থবহ হবে সেই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। সুতরাং, আমাদের সবার উচিত প্রতিদিনের শুরুতে এমন কিছু অভ্যাস রপ্ত করা যেগুলো দিনের প্রতিটি মুহুর্তে যোগাবে অনুপ্রেরণা এবং দিনটিকে করে তুলবে লাভজনক। সেই অভ্যাসটি হতে পারে শারিরীক ব্যায়াম, লেখালেখি, ধ্যান, সংগীত সাধনা কিংবা বই পড়া।
অর্থাৎ যেটি আপনাকে ইতিবাচক ও সক্রিয় হতে সহায়তা করবে এবং দূর করবে মানসিক অবসাদ।

অনুসরণ করুন ৮০/২০ নীতিঃ

এই নীতির প্রবক্তা ইটালিয়ান অর্থনীতিবিদ ভিলফ্রেড পারেতো। তার নামানুসারে এই নীতিকে ‘পারেতো’র ৮০/২০ নীতি’ ও বলা হয়। ভিলফ্রেড পারেতোর মতে, যেকোন পরিস্থিতিতে মাত্র ২০ শতাংশ পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি কাজের ৮০ শতাংশ ফলাফল বের করে আনা সম্ভব। সুতরাং কোন একটি কাজে পুরোপুরি সফল হতে চাইলে প্রয়োজন সময়ের সদ্বব্যবহার এবং কর্মপরিকল্পনা।

পড়ুন, পড়ুন এবং পড়ুনঃ

পৃথিবীর যতো সফল ব্যাক্তিত্ব রয়েছেন তাদের সবার দৈনন্দিন রুটিনে একটি ব্যাপারে সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।  ‘বই পড়া।’ জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য বই পড়ার কোন বিকল্প নেই। বই পড়াকে তাই কোন কোন ক্ষেত্রে ধ্যান করার সাথেও তুলনা করা যায়। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে বই পড়ার অভ্যাস আমাদের মানসিক বিকাশে অগ্রণী ভুমিকা পালন করে। সহায়তা করে দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে।  বিকাশ ঘটায় চিন্তা-ভাবনায়। বিশ্বের শীর্ষ ধনী এবং মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিলগেটসের প্রতিদিনের পছন্দের কাজের মধ্যে একটি হলো বই পড়া। বছরে তিনি প্রায় ৫০টি বই পড়েন।

মাল্টিটাস্কিং কে না বলুনঃ

ফোর্বস সাময়িকীর মতে বিশ্বের মাত্র ২ শতাংশ মানুষ মাল্টিটাস্কিং এ পারদর্শী। একইসাথে অনেকগুলো কাজ আমাদের কার্যক্ষমতাকে বাড়ানোর বদলে কমিয়ে দেয়। অধিক পরিমাণে মাল্টিটাস্কিং আমাদের ফোকাস কে ব্যাহত করে। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে সময় বাঁচানোর জন্য উপযোগী মনে হলেও মাল্টিটাস্কিং আমাদের মস্তিষ্কের অপ্রাসঙ্গিক তথ্যগুলোকে আলাদা করার যে ক্ষমতা সেটিকে কমিয়ে দেয়।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষণালব্ধ ফলাফলে দেখা গেছে অধিক পরিমানে মাল্টিটাস্কিং আমাদের কর্মদক্ষতার বিকাশকে ব্যাহত করার পাশাপাশি মস্তিষ্কের অবসাদ তৈরী করে। সুতরাং প্রতিদিন ঘুমানোর আগে পরবর্তী দিনের জন্য একটি টু-ডু লিস্ট তৈরী করার অভ্যাস আমাদেরকে উপহার দিতে পারে একটি প্রোডাক্টিভ দিন।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে শিখুন

একজন ফ্রেঞ্চ ঔপন্যাসিক একবার বলেছিলেন, ‘গোলাপঝাড়ে কাঁটা আছে বলে আমরা যেমন অভিযোগ করতে পারি, তেমনি এইটা ভেবেও আনন্দিত হতে পারি যে সেই কাঁটাদের আবার গোলাপ ফুল আছে’। ইদুঁর দৌড়ের মতোন নিম্নমানের প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত হয়ে আমরা ভুলতে বসেছি যে আমরা আসলে কতোটা ভাগ্যবান। প্রকৃতিতে ঘটতে থাকা প্রতিটি ঘটনাকে আমরা দুইভাবে দেখতে পারি। একটি নেতিবাচক। অন্যটি ইতিবাচক। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সাম্প্রতিক একটি ইতিবাচক বিষয়কেও নেতিবাচক ভাবে দেখার প্রবণতা বেশ লক্ষনীয় হয়ে উঠেছে আমাদের মাঝে। এই ধরণের নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টির পেছনের সবচেয়ে বড় কারণ আমাদের কৃতজ্ঞতাবোধের অভাব। কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষের মধ্যে তৈরী করতে পারে ইতিবাচক মনোভাব, মানসিক চাপ কমিয়ে আনতে পারে শারীরিক সুস্থতা।
খুব ছোট ছোট বিষয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাস গড়ে তুলতে আমরা ব্যবহার করতে পারি ‘Gratitude Journal’,  স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে পারি বিভিন্ন ইভেন্টে। মূলত প্রতি রাতে ঘুমানোর পূর্বে সারাদিনের ছোট ছোট সবগুলো মুহুর্তের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশই এই অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক ভুমিকা পালন করতে পারে। কথায় আছে,

‘The more you appreciate the little joys of life, the happier you’ll be.’

নিজেকে ইতিবাচক মানুষের সংস্পর্শে রাখুন

‘সঙ্গদোষে লোহা ভাসে’ – বাংলাভাষায় জনপ্রিয় এই প্রবাদ বাক্য আমরা কমবেশি সবাই শুনেছি। আমেরিকান লেখক এবং উদ্যোক্তা জিম রন বলেছেন, ‘যেই পাঁচজনের সাথে আপনি আপনার সবচেয়ে বেশি সময় অতিবাহিত করেন তাদের একজন আপনি নিজে। অর্থাৎ আপনি কাদের সাথে আমার সময়ের সিংহভাগ অতিবাহিত করছেন তাদের ব্যাপারে আপনার সতর্ক হওয়া উচিত। আমাদের সকলের জন্য ইতিবাচক মানুষের সংস্পর্শে থাকা জরুরি। যেসব মানুষ আপনাকে উৎসাহ প্রদান না করে বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনাকে অনুৎসাহিত করতে ব্যস্ত তাদের থেকে প্রয়োজনে সরে আসুন। এমন মানুষের সংস্পর্শে আসুন যাদের সাথে নিজের সুখ এবং দুঃখের প্রতিটি মুহুর্ত ভাগ করে নেয়ার পাশাপাশি উৎসাহ পাওয়া যায়।

নিয়মিত ব্যায়াম করুনঃ

নিয়মিত শরীরচর্চা একজন ব্যাক্তির সৃজনশীলতা এবং জ্ঞানীয় দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে। তাছাড়াও ধৈর্যক্ষমতা এবং কর্মক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে কার্যকরী ভুমিকা পালন করে। শুধু তাই নয়,  শরীরে ‘Endorphins’ হরমোনের পরিমান বৃদ্ধি করে মন মেজাজ স্বাভাবিক রাখতেও সহায়তা করে এই অভ্যাস

শ্রবণ দক্ষতাকে করুন শাণিতঃ

Communication Skills বা যোগাযোগ দক্ষতা বর্তমানে অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।  যোগাযোগ দক্ষতাকে সাধারণ ভাষায় ‘তথ্যের আদানপ্রদান’ বলা যায়। কার্যকরী যোগাযোগ স্থাপন, ব্যাক্তিগত ও পেশাদারী যেকোন সম্পর্ক উন্নয়ন কিংবা রক্ষনে শ্রবণ দক্ষতা  অতীব গুরত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়। তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে অন্যের দেয়া তথ্যটাকে গ্রহণ করা, বুঝতে পারা জরুরী। সেইক্ষেত্রে শ্রবণ দক্ষতাকে শাণিত করার বিকল্প নেই। একজন শ্রোতা হিসেবে আপনার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব কথকের প্রতিটি কথাকে সমান গুরত্ব দিয়ে শোনা যা তাকে তার নিজের কাছেই মূল্যবান করে তুলতে পারে। শ্রবণ দক্ষতায় পারদর্শিতা অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ কেবল পছন্দের শ্রোতাই নয়, হতে পারেন একজন ভালো বক্তাও। পাশাপাশি এই দক্ষতা আপনার জ্ঞানের ভান্ডারকে করবে আরো সমৃদ্ধ। যেমনটি প্রকাশ পায় নিচের উক্তিতে,

The More you listen, the more you learn

বিরতি নিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেঃ

বিশ্বায়নের এই যুগে আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র এখন প্রযুক্তিনির্ভর।  ফোর্বস সাময়িকীর মতে, একজন ব্যাক্তি গড়ে প্রতিদিন ১ ঘন্টা ৪০ মিনিট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় থাকেন।  গবেষণালব্ধ ফলাফলে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার জন্ম দিতে হতাশা, বিষণ্ণতা এবং মানসিক অবসাদের। সুতরাং সপ্তাহে অন্তত একদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরী।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহনীয় ব্যবহার বিষণ্ণতাকে কাটিয়ে উঠতে কার্যকরী ভুমিকা পালন করতে পারে।

নিজের প্রতি যত্নশীল হোনঃ

ব্যস্ত জীবন থেকে নেয়া সামান্য বিরতি কখনো কখনো ব্যাক্তির মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। প্রতিদিন কমপক্ষে এমন একটি কাজ করুন যেটি আপনাকে মানসিক শান্তি প্রদান করে। হতে পারে সেটা গান শোনা,  গান গাওয়া, বন্ধুদের সাথে কোথাও ঘুরতে যাওয়া কিংবা নতুন কোন কিছু শেখা।

উপরিউক্ত অভ্যাসগুলো কখনোই একদিনে রপ্ত করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দৃঢ়তা,  সহনশীলতা এবং নিরলস চেষ্টা। আপনার দৃঢ়প্রত্যয়ী মনোভাব আপনাকে পৌছে দিবে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে।

Now pull up your socks, it’s time to win at life!

ফোর্বস সাময়িকী থেকে নেওয়া।

6 COMMENTS

  1. I’m not that much of a online reader to be honest but your blogs really
    nice, keep it up! I’ll go ahead and bookmark your site to come back down the road.

    All the best

  2. Hello there! This is kind of off topic but I need some guidance
    from an established blog. Is it tough to set up your own blog?
    I’m not very techincal but I can figure things out pretty quick.
    I’m thinking about making my own but I’m not sure where to start.
    Do you have any ideas or suggestions? Appreciate it

  3. I love your blog.. very nice colors & theme. Did you make
    this website yourself or did you hire someone to do it for you?
    Plz answer back as I’m looking to create my own blog and would
    like to find out where u got this from. thanks a lot

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here